শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

২০২৩ এ মন্দা পরিস্থিতি দেখছে বিশ্বব্যাংক

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে লড়তে গিয়ে দেশে দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যেভাবে একই সময়ে সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রতিক্রিয়ায় ২০২৩ সাল নাগাদ বিশ্বে মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্ব ব্যাংক।

এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো একই সময়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় তিন অর্থনীতির অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রবৃদ্ধির গতি অনেকটা স্লথ হয়ে এসেছে। এ অবস্থায় ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতি সামান্য ঝাঁকি খেলেও সেটা বিশ্ব মন্দার কারণ হতে পারে।

·১৯৭০ সালের পর মন্দার ধকল কাটিয়ে ওঠার পর এবারই প্রথম বিশ্ব প্রবৃদ্ধির চাকা এত দ্রুত গতি হারিয়েছে।

·যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতির চাকা সবচেয়ে বেশি স্লথ হয়েছে।

·এর আগের মন্দার আগে ভোক্তারা যেভাবে বাজারের ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছিলেন, এবার তার চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাজারে।

·দেশে দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যেভাবে একসঙ্গে সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে, শুধু সেই চেষ্টায় হয়ত মূল্যস্ফীতির হারকে মহামারীর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো একইসঙ্গে যে মাত্রায় সুদের হার বাড়িয়েছে, গত পাঁচ দশকে তা দেখা যায়নি। এই প্রবণতা আগামী বছর পর্যন্ত চলতে পারে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী মুদ্রানীতিতে সুদের হার প্রায় ৪ শতাংশে উন্নীত করবে, যা ২০২১ সালের গড় তুলনায় ২ শতাংশ পয়েন্টের বেশি।

বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণায় দেখা গেছে, সরবরাহ ব্যাহত না হলে এবং শ্রম বাজারের চাপ কম না হলে সুদের হার ওই পরিমাণ বৃদ্ধিতে আগামী বছর বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা গড়ে মহামারী শুরুর আগের পাঁচ বছরের গড়ের প্রায় দ্বিগুণ।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেন, “বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ মন্দায় পড়ার কারণে তা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আমার উদ্বেগ হল, এই প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। এর দীর্ঘস্থায়ী ফল উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির মানুষের জন্য ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠবে।”

তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতির নিম্ন হার, মুদ্রার স্থিতিশীলতা এবং দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য নীতিনির্ধারকদের ব্যয় কমানো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এজন্য অতিরিক্ত বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মূলধন বরাদ্দের কৌশল নির্ধারণ করা উচিত, যা প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, মূ্ল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত এবং বিশ্বব্যাপী মন্দার ঝুঁকি না বাড়িয়েই সেটা করা সম্ভব। সেজন্য বিভিন্ন নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল শক্তিশালী করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

শ্রম-বাজারের সীমাবদ্ধতা কমানো, বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ বৃদ্ধি, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বৈশ্বিক সমন্বয় এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফও এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতির চাকা আরও স্লথ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

জুলাই মাসের প্রাক্কলনে আইএমএফ বলেছিল, ২০২২ সালে বিশ্বের মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ২.৯ শতাংশ বাড়তে পারে। আগামী মাসে নতুন প্রতিবেদনে সংশোধিত হার প্রকাশ করবে তারা।

তবে, আইএমএফ’র মুখপাত্র গেরি রাইস বলেছেন, কিছু দেশ আগামী বছর মন্দার কবলে পড়লেও সেটা বিশ্ব মন্দার রূপ পাবে কি না, তা  বলার সময় এখনো আসেনি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com